Wednesday, January 11, 2012

ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র

প্রথমে মালদার কথাই ধরা যাক৷ প্রথমে গনি খান চৌধূরি, তারপর বোন বিধায়িকা রুবি নুর, ভাই আবু হাসেম সাংসদ, ভাগ্নী মৌসম সাংসদ৷ এবার আবার আবু হাসেম বিধানসভায প্রার্থী করেছেন ভাই নাসির আর ছেলে ইশাকে৷ মুর্শিদাবাদের সাংসদ মান্নান হোসেনের ছেলে সৌমিক ডোমকলের প্রার্থী, প্রার্থী প্রণবপুত্র অভিজি বা তৃণমূলের শিশিরপুত্র দিব্যেন্দু, অন্য ছেলে শুভেন্দুও সাংসদ৷
সেদিন কলকাতার এক প্রশস্থ রাস্তার মাঝখানে একটি পোস্টার চোখে পড়ল৷ তাকিয়ে দেখলাম একটি পরিচিত হাসি হাসি মুখ৷ নাম তাঁর রাহুল গান্ধী৷ এতে খুব বেশী বিচলিত হলাম না৷ কেননা সামনেই রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন৷ রাহুল গান্ধীর ছবি লাগিয়ে কেউ ক্যাম্পেন করতেই পারে৷ কিন্তু যে জিনিসটি আমাকে প্রচন্ড ভাবালো তা হল ছবির সাথে দেওয়া ক্যাপশনটি৷ বড় বড় করে লেখা ‘‘ভারতের ভবিষ্য যে ব্যক্তি মাত্র কয়েক বছর আগে (২০০৩ সাল থেকে) রাজনীতিতে নামলেন এবং যাঁকে রাজনীতির ব্যাপারে এখনও অপরিপক্ক ভাবা হয় তিনি কিনা ১২০ কোটি ভারতবাসীর ভবিষ্য! ক্যাপশন কিসের ইঈিত বহন করে? তাঁর মধ্যে কি এমন বিশেষত্ব আছে যার কারণে তাঁকে এত বড় করে দেখা হচ্ছে? এর কারণ কি এটা যে, তিনি এক রাজ বংশের রাজপুত্র? তাঁর পিতা রাজীব গান্ধী ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, মা সোনিয়া গান্ধী বর্তমান কংগ্রেস সভানেত্রী, ঠাকমা ইন্দিরা গান্ধী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং প্রপিতামহ জওহরলাল নেহেরু ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী?
পরে ভেবে দেখলাম যে, রাহুল গান্ধী একা নয়৷ রাজনীতির ময়দানে বংশানুক্রমিক ভাবে আসা ব্যক্তিদের সংখ্যা অনেক৷ বর্তমান লোকসভার এম.পি দের দিকে দৃষ্টিপাত করলাম৷ দেখা গেল যে, ত্রিশ বছরের বয়সের মধ্যে এম.পি. হয়েছেন এমন সকলেই বংশানুক্রমিক সূত্র থেকে অর্থা তাঁদের পিতা বা অন্য কোনো ঘনিষ্ট আত্মীয় একজন প্রতিষ্টিত রাজনীতিবিদ৷ আর চল্লিশ বছর বয়সের মধ্যে এম.পি হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের ২/৩ অংশ বংশানুক্রমিক সূত্র ধরে৷ বর্তমান সর্বমোট ৫৪৫ জন এম.পির মধ্যে ১৫৬ জন বংশানুক্রমিক ভাবে আসা৷ শতকরা হিসাবে দেখলে এনাদের সংখ্যা হয় ২৮.% যা খুবই উদ্বেগজনক৷
বংশানুক্রমিক ভাবে আসা এম.পি.দের বৈশিষ্ট সবার ক্ষেত্রে প্রায় একই৷ এঁরা কোনো ভারতীয় বোডিং স্কুলে পড়াশুনা করে সোজা চলে যান ইউরোপ কিংবা আমেরিকায়৷ সেখানকার কোনো কলেজ বা ইনস্টিটিউট থেকে ব্যাংকিং অথবা বাণিজ্য বিষয়ে ডিগ্রি নিয়ে নিরাপদে ফিরে আসেন ভারতে৷ ততদিনে তাঁদের রাজনীতিতে নামার পথ প্রশস্থ হয়ে থাকে৷ আর তারা বিলম্ব না করে নিজেদেরকে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত করে থাকেন৷ রাহুল গান্ধীর উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে৷ তিনি প্রথমে দিল্লীতে অবস্থিত সেন্ট কলম্বিয়াস স্কুলে পড়াশুনা করেন৷ তারপর দেরাদুনের দুন স্কুলে ভর্তি হয়৷ বলা বাহুল্য যে, এসব স্কুলে শুধুমাত্র মন্ত্রী, এম.পি. অন্যান্য বড় সড় ব্যক্তিদের ছেলেরাই পড়াশুনা করে৷ এখান থেকে পড়াশুনা করার পর সোজা চলে যান আমেরিকার ফ্লোরিডায়৷ সেখানকার রলিন্স কলেজ থেকে বি. সমাপ্ত করে কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজ থেকে এম.ফিল ডিগ্রি হাসিল করেন৷ তারপর দেশে ফিরে মুম্বাই-এর একটি কনসালটেন্সি কোম্পানির উচ্চপদে সার্ভিস করতে থাকে৷ ২০০৩ সাল থেকে রাহুল গান্ধীকে রাজনীতির ময়দানে নামতে দেখা যায়৷ রাজনীতিতে প্রবেশ করার ব্যাপারে তাঁর একটি মন্তব্য খুবই উল্লেখযোগ্য৷ মধ্য প্রদেশের একটি অন্তরঙ্গ ছাত্র সমাবেশে তিনি বলেন-‘‘রাজনীতিতে প্রবেশ করার তিন চারটি উপায় আছে৷ প্রথমতযদি কারও অর্থ ক্ষমতা থাকে৷ দ্বিতীয়তপারিবারিক সূত্র থেকে৷ আমি নিজেই এর দৃষ্টান্ত৷ তৃতীয়ত-যদি কেউ কোনো রাজনীতিবিদের ঘনিষ্ঠ পরিচিত হন৷ আর চতুর্থতজনগনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে৷পারিবারিক সূত্র থেকে আসা অন্যান্য এম.পি.-দের মতো রাহুল গান্ধী অন্তত মিথ্যা বলেননি৷ তার বক্তব্য – ‘‘যে আপনে পিতা, নানী, আউর পরদাদা কে বিনা উস জাগাহ পার নেহি পৌঁছ সাকতা থা যাঁহা সে আজ হুঁ৷অর্থা-‘‘আমার পিতা, ঠাকুমা প্রপিতামহ ছাড়া আমি জায়গাতে পৌঁছাতে পারতাম না যেখানে আমি আছি৷
পারিবারিক সূত্র থেকে আসা এই সমস্ত এম.পি.-রা অল্প বয়সে এবং পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই রাজনীতিতে প্রবেশ করে নির্বচিত হন৷ তাই তাঁদের আচার ব্যবহার ও কথা বার্তায় অনভিজ্ঞতা ও অযোগ্যতার ছাপ প্রায়ই প্রকট হয়ে থাকে৷ তা সত্ত্বেও তাঁদের ক্রেডিট কোন ভাবে কম হয় না, কেননা তাঁরা সকলেই বড় বড় ব্যক্তিদের তথা প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদদের ছেলে৷ আশেপাশের সবাই তাঁদেরকে রাজপুত্রের মতো স্নেহ, ভালবাসা ও সম্মান করেন৷ কোন ভূল করলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেন৷ বলে থাকেন যে-এই তো সবেমাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন৷ ভূল তো হবেই, এঁরাই তো দেশের ভবিষ্য, জাতির ভরসা এবং নতুন প্রজন্ম৷
এঁদের প্রতি মিডিয়ারও বক্তব্য খুবই পজিটিভ৷ মিডিয়া বিষয়টিকে এভাবে উপস্থাপন করে যে- জাতির ভবিষ্য নির্মাণে যুবকরা এগিয়ে এসেছে৷ এঁদেরকে মিডিয়াতেতরুণ তুর্কীহিসাবে প্রতিভাত করা হয়৷ মিডিয়ার বক্তব্যে এটা উঠে আসে যে-‘‘ যুগ হল রাহুল গান্ধীর যেখানে যুব সম্প্রদায়কেই রাজনীতির মানদন্ড হতে হবে৷ যদি এমন কোন সময় থেকে থাকে যখন যুবকরাই পরিবর্তন আনতে পারে তা হল বর্তমান সময়৷ তাদের সময় এসে গেছে৷এই যুব দলকেটিম রাহুল” (Team Rahul) হিসাবে উল্লেখ করা হয় জনপ্রিয় মিডিয়া গুলিতে৷
ইতিহাসের পাতায় পড়েছি রাজা মহারাজাদের প্রতি প্রজারা ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছাই হোক চরম ভক্তি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করত৷ রাহুল গান্ধী সোনিয়া গান্ধীর ক্ষেত্রেও সেরকম চিত্র চোখে পড়ে৷ কংগ্রেসের মুখপত্রকংগ্রেস সন্দেশএর বিভিন্ন সংখ্যাতে নেহেরু গান্ধী রাজবংশের চরম প্রশংসা প্রায়শই লক্ষনীয়৷ ইন্দিরা গান্ধীর ৯১তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত তাঁর ছবির পাশে ছিল ফুলের মালা পরিহিতা মহারানী সোনিয়া গান্ধীর ছবি৷ সেই সাথে নিম্নোক্ত ক্যাপসন-
“Our pride is Mother India.
 Our guide is Mother Sonia.”
অর্থাদেশমাতৃকা-স্বরূপ ভারতবর্ষ আমাদের গর্ব আর মাতা সোনিয়া আমাদের পথ প্রদর্শক৷প্রাক্তন স্পিকারের কন্যা সব থেকে কম বয়স্কা মন্ত্রী আগাথা সাঙ্গমার এক বক্তব্যে সোনিয়া রাহুলের প্রতি অতিভক্তির পরিচয় পাওয়া যায়৷ তিনি বলেন যে – “শপথ গ্রহণের পর সোনিয়াজি রাহুলজি আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন৷আরও বলেন যে -“গত এক বছরে আমার পারফর্মেন্সে রাহুল গান্ধী খুবই আনন্দিত৷এসব বক্তব্যে বোঝা যায় যে, গান্ধী পরিবার খুশী হওয়াই বড় কথা, জনগন কি মনে করল তা প্রাথমিক নয়৷ ব্যক্তিগত সুযোগ সুবিধার জন্য যারা রাহুল গান্ধীকে সন্তুষ্ট চায় তাদের প্রতি তাঁর বিরক্তি সূচক মন মানসিকতা থাকলেও সে যে এমনটা একেবারেই চায়না তা বলা যায় না৷ একবার জনৈক মন্ত্রীকেও রাহুলের জুতো বয়ে নিয়ে যেতে দেখা গেছে৷
সমস্ত এম.পি দের মধ্যে ২৮.% পারিবারিক সূত্রে হলেও মহিলাদের ক্ষেত্রে এ হার আরও অনেক বেশী (৬৯.%) অর্থা প্রতি ১০ জন মন্ত্রীর মধ্যে ৩ জন পারিবারিক সূত্রের এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জন পারিবারিক সূত্রের৷ ২০১০ সালে ১০৮ তম সাংবিধানিক সংযোজনে বলা হয়েছে যে রাজ্য ও দেশীয় পর্যায়ে সমস্ত নির্বাচিত জায়গাতে স্ত্রীলোকদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে৷ এর ফলে পারিবারিক সূত্রে মহিলা এম.পি দের সংখ্যা আরও অনেক বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷
এখন প্রশ্ন হল শুধু কি কংগ্রেস পার্টির মধ্যেই পরিবারতন্ত্র রয়েছে ? নিশ্চয় নয়, তবে কংগ্রেসের ক্ষেত্রে এ হার সর্বোচ্চ৷ ৩৫ বসরের কম এমন সমস্ত কংগ্রেস এম.পি.’ই বংশানুক্রমিক ভাবে বা পারিবারিক সূত্রে৷ ৪০ বসরের কম এমন ১০ জন কংগ্রেস এম.পি.র মধ্যে প্রায় ৯ জনই (৮৮%) পারিবারিক সূত্রে৷ অন্যান্য দলগুলির মধ্যে সি.পি.আই.এমের ২৫%, বিজেপির ১৯%, তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫.% এবং শিবসেনার ৯.% এম.পি পারিবারিক সূত্র থেকে আসা৷ আঞ্চলিক ও ছোট ছোট দলগুলির ক্ষেত্রে এর হার অত্যন্ত বেশী৷
যেমন-রাষ্ট্রীয় লোক দলের ৫ জন এম.পির মধ্যে ৫ জনই পরিবারিক সূত্রের (১০০%) আবার ন্যাশনালিষ্ট কংগ্রেস পার্টির ক্ষেত্রে জন এম.পি.র মধ্যে জন পারিবারিক সূত্রের (৭৭.%) এ ধরনের এম.পি.দের মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা বেশ প্রবল৷ বিশেষ করে যদি পরিবারের একাধিক জনের পার্টির সাথে বা পার্টির উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকে তাহলে মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা আরও তিন গুণ৷
এ ধরনের ব্যবস্থায় জাতির ভবিষ্য গঠন হবে নাকি ভবিষ্য অন্ধকার হবে তা আশা করি কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারছেন৷ বড় বড় বাড়ীর ছেলেরা যাঁরা ছোটবেলা থেকেই সমাজ থেকে বিচ্যুত, নিরাপত্তার জন্য যাদেরকে নির্দিষ্ট কয়েকটি বোর্ডিং স্কুলেই পড়াশুনা করতে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে তাঁরা সোজা চলে যান ইউরোপ কিংবা আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার জন্য তাঁরাতো ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞানলাভতো দূরের কথা, ভারতীয় সমাজের স্পর্শওতো কখনও অনুভব করার সুযোগ পান না৷ এই সমস্ত ব্যক্তিরা যাদের সাথে মেশার সুযোগ সামান্য হলেও পায় তাঁরাও সমাজের উপরতলার মানুষ৷ এঁরা বিদেশ থেকে ফিরে ক্রমেই রাজনৈতিক নেতৃত্ব হাতে পেয়ে দেশের বা সমাজের কল্যানে কাজ করতে পারবে এমন ধারনা কিভাবে করা যায়? এঁরা না নিজের পাড়া-প্রতিবেশীর খবর রাখেন না তাঁরা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক অবহিত৷ এঁদেরকে যেভাবে বোঝানো হয় এঁরা সেরকমভাবেই বুঝে নেয় ভাসা ভাসা, উপর উপর৷ ফলে এদেরকে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা রাজনৈতিক দলগুলির জন্য খুবই সহজ হয়৷
জনগনের সাথে এঁদের সম্পর্ক কোন অবস্থাতেই নিবিঢ় হয় না৷ জনগন তাঁদের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী হয়৷ এই আশাকে সম্পূর্ন নিরাশায় পরিণত না করার ক্ষেত্রে তাঁদের পরিবারের রাজনীতিবিদেরা তপর থাকেন এবং সুচারুভাবে জনগনকে শান্ত/ক্ষান্ত রাখেন৷ জন প্রতিনিধিত্ব করার পরিবর্তে নিজের গদি টিকিয়ে রাখার দিকেই এরা বেশী মনোযোগী হন৷ তাই যে যে দলের অন্তর্ভূক্ত হন, তিনি সেই দলের উর্দ্ধতন নেতা বা নেত্রীকে সন্তুষ্ট করার প্রতি অত্যন্ত খেয়াল রাখেন৷
প্রকৃতপক্ষেই যাঁদের দেশ পরিচালনার যোগ্যতা আছে তাঁদেরকে বঞ্চিত করা হয়৷ ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের কল্যান না হয়ে রাজনৈতিক দলেরই কল্যান হয় এই জঘন্য প্রথার মধ্যে দিয়ে৷ তাই তো দেখা যায় নিজের দলের সুনাম বজায় রাখার জন্য এঁরা মরিয়া হয়ে ওঠেন৷ জনগনের জন্য ছোট কোনো কাজ করলে বিরাট পাবলিসিটি দিতে কখনও ভূল করে না৷ তাই এ ধরনের ব্যবস্থায় প্রকৃত ঞধষবহঃ ঢ়ড়ড়ষ কখনও উঠে আসে না৷ এঁদের কারও কারও মধ্যে জনকল্যাণমূলক মানসিকতা প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষ্য করা গেলেও ধীরে ধীরে তাঁরা পরিপক্ক রাজনীতিবিদদের মতো ধূর্ত হয়ে ওঠেন৷ নিজেদের আখের গোছানোর ব্যাপারে এদের ভালোই মনোযোগ থাকে৷ এদের মধ্যে অনেকেরই সুইস ব্যাঙ্কে একাউন্ট আছে৷ বিতর্কিত হলেও বলে রাখতে চাই রাহুল গান্ধী ও তার পরিবারের সুইস ব্যাঙ্ক একাউন্টে ৪০ থেকে ৮০হাজার কোটি টাকা আছে বলে রিপোর্ট পাওয়া গেছে৷
পরিবারতন্ত্রের মধ্য দিয়ে অর্থা পারিবারিক সূত্র ধরে রাজনীতিতে আসা একবিংশ শতকের নতুন কোনো ঘটনা নয়৷ এটা বহুদিন ধরে চলে আসা একটি প্রথা-একটি রোগ যা খুবই ভয়ঙ্কর৷ রাজতন্ত্রে রাজার ছেলেই রাজা হয়-আর এখানেও মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী,এম.পির ছেলে এম.পি হচ্ছে৷ ইতিহাসের পাতায় আমরা পাল বংশ, সেন বংশ, মৌর্য বংশ প্রভৃতির কথা জানি৷ একই ভাবে বর্তমান কংগ্রেসের পরিবারতন্ত্রকে নেহেরু বংশ বললে কোথায় ভূল হবে? আর যে ভারতবর্ষ গণতন্ত্রের জন্য গর্ব করে সেই গণতন্ত্রই বা গেল কোথায়? ভারতীয় পরিস্থিতি এমনই যেখানে এখনও ভালবাসা, ভক্তি, শ্রদ্ধা পক্ষপাতিত্বের ভিত্তিতে নির্বাচন হয়ে থাকে৷ এ এমন এক রোগ যা অদূর ভবিষ্যতে নিঃশেষ হয়ে যাবে বলে কেউই ধারনা করতে পারে না৷ এ রোগের জীবানু রাজনৈতিক দলগুলির রক্তের সাথে মিশে আছে বললে অত্যুক্তি হয় না৷
এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বিলম্ব না করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার৷ সমাজ সম্পর্কে স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ চিন্তার প্রসার ঘটাতে হবে৷ নিজের স্বার্থের উর্দ্ধে জনস্বার্থকে বড় করে দেখতে হবে৷ এ ধরনের যত ভালো ভালো কথাই আমরা বলি না কেন তাতে কোনো ভাবেই কাক্সিক্ষত এক রাষ্ট্রব্যবস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়৷ কেননা যারা অর্থ, প্রভাব, প্রতিপত্তি ও ক্ষমতার বলে মিডিয়াকে হাতে রাখতে পারে, প্রশাসনকে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করতে পারে তাঁদেরকে নিজেদের স্বার্থচিন্তা থেকে বিরত রাখার মত কি এমন জিনিস আছে? তাঁদের মধ্যে জবাবদিহীর চেতনা সৃষ্টি করার কি উপায় আছে? ক্ষমতার দাপাদাপি থেকে বিরত রাখার কোন যুক্তি তাঁদেরকে দেওয়া যায় ? তাঁরাতো এর মধ্যেই শান্তি খুঁজে পান৷ জনগনের টাকা আত্মসা করাকে পাপ মনে করার কি যুক্তি আছে এঁদের কাছে? আসলে এঁদের কাছে এমন কোনো বিশ্বাস, মতাদর্শ বা জীবনদর্শন নেই যা তাদেরকে উন্নত নৈতিক মানদন্ডের দিকে আকৃষ্ট করতে পারে৷

সমাপ্ত

[প্রবন্ধটি উন্মেষ, বর্ষ ১, সংখ্যা ১ এ প্রকাশিত]

Thursday, January 27, 2011

ভাল পরীক্ষা দেওয়ার ১২টি টিপস

প্রিয় ছাত্রন্ধুরা! সালাম নিও আর কয়েকদিন পরেই তোমাদের পরীক্ষা আশা করি ভালোই প্রস্তুতি নিয়েছো তোমাদের পরীক্ষা যাতে ভালো হয় সেটাই এখন সবার চিন্তা৷ তাই এখানে কিছু পরামর্শ দেওয়া হল এগুলি ফলো করতে পারলে আশা করি তোমরা ফল পাবে 


(১) প্রস্তুতি পর্ব তো প্রায় শেষ আমরা এখানে পরীক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে কিছু আলোচনা করব না আশা করি আমাদেরই প্রকাশিত পরীক্ষা প্রস্তুতি টিপস'নামক পুস্তিকাটি পড়ে তোমরা উপকৃত হয়েছো যাইহোক,এপর্বে তোমাদের চিন্তাভাবনা এরকম হওয়া উচিত - গত কয়েক বছর ধরে এবং বিশেষত গত কয়েক মাসে তোমরা যে বিপুল পড়াশুনা করেছো তা যেন পরীক্ষার খাতায় যথাযথ ভাবে নামাতে পারো এই অবস্থায় নতুন নতুন বিষয় বা বিষয়বস্তু নিয়ে পড়াশুনার দিকে ঝোঁক না দিয়ে যা পড়েছো সেগুলিই রিভাইজ দিয়ে ঠিক ঠাক করে নিলেই ভালো করবে 

(২) যদি সম্ভব হয় তাহলে টেস্ট পেপার বা প্রশ্ন বিচিত্রা থেকে কোন একটি পেপার বেছে নিয়ে প্রতিটি বিষয়েই একটি করে ডেমো টেস্ট দিয়ে দাও ঘড়ি ধরে একেবারে পরীক্ষার মত করে কাউকে দিয়ে গার্ড দেওয়ার প্রয়োজন নেই নিজেই নিজের গার্ড তারপর নিজেই নিজের খাতা দেখো দেখো ভুলগুলো কোন যায়গায় হচ্ছে আর কোন 'সিলি মিসটেক'(silly mistake) হচ্ছে কিনা ঠিক সময়ে শেষ করতে পারছ কিনা এতে ভীষনভাবে উপকৃত হবে ইনশাল্লাহ এটা অনেকটা ফাইনাল ম্যাচ খেলার আগে একটা টেস্ট ম্যাচ খেলে নেওয়ার মত 

(৩) পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে গেলে বিশ্রাম নিতে ভুলো না পড়ার চেয়ার থেকে উঠে আব্বু-আম্মুর সাথে একটু কথা বলে এসো বাড়ীর ছোট ছেলে মেয়েদের সাথেও একটু সময় কাটিয়ে আসতে পারো কিংবা বাড়ী সংলগ্ন ফুল বাগানে একটু জল দিয়ে এসো আসলে ক্লান্ত অবস্থায় পড়াশুনা করলে কোন লাভ হয় না 

(৪) খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে একটু সাবধানতা অবলম্বন করবে এমন কিছু খাবে না যাতে পেট খারাপ হতে পারে খাওয়ার পরিমানের ব্যাপারেও সচেতন থেকো৷ টেনশন করে খাওয়া দাওয়া কমিয়ে দেওয়ার কোন মানে হয় না আবার পেটভর্তি করে খাওয়াও একেবারে চলবে না পরিমাণ মত খাওয়া দাওয়া করবে পানি বেশী করে খাবে শরীরে পানির অভাব হলে শরীর ও মন ঝিমিয়ে পড়ে পড়াশুনায় এর প্রভাব পড়ে 

(৫) টাইম টেবিল নিশ্চয়ই এতদিনে বানিয়ে নিয়েছো যদি না বানিয়ে থাকো তাহলে অবশ্যই বানিয়ে নাও তাতে কত তারিখের মধ্যে কোন কোন বিষয় রিভাইজ দেবে তা অন্তর্ভুক্ত কর ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠা থেকে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত একটা সময় সূচী তৈরী করে নিলে ভালো এটি মোটামুটি ফলো করলেই হবে খুব কঠোরতার (rigidity) সাথে পাল না করলেও চলবে আর রুটিন ব্রেক হলেও মন খারাপ বা হতাশ হলে চলবে না, কেমন! 

(৬) পিতামাতাও বেশ কিছু করণীয় আছে আপনারা কোনভাবেই অসন্তুষ্ট হয়ে কিংবা রাগন্বিত হয়ে ছেলেকে বা মেয়েকে কিছু বলে বসবেন না নিজের ছেলে বা মেয়েকে নিয়ে হয়ত আপনাদের অনেক স্বপ্ন আছে কিন্তু সে পড়াশুনা ঠিকমত করছে না দেখে রাগ দেখালে কাজের চেয়ে অকাজই বেশি হবে এর পরিবর্তে আপনারা সব সময় তাকে উসাহিত করতে থাকুন তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলুন তার পড়াশুনার জন্য অনুকুল পরিবেশ গড়ে তুলুন তার সহায়ক হোন তাকে বিশ্রাম নেওয়া বা হাল্কা হওয়ার (relaxation) অনুমতি দিন তার সামনে তার জন্য দোওয়া করুন মাঝে মাঝে চুম্বনও করুন 

(৭) আবার ফিরে আসি তোমার কর্তব্য নিয়ে বিশেষতঃ পরীক্ষার দিনগুলি নিয়ে পরীক্ষার দিনগুলোতে বেশি চাপ নেবেনা ছয় থেকে সাত ঘন্টা ঘুম সুনিশ্চিত করবে তা নাহলে যা পড়েছো তা ঠিকঠাক নামাতে পারবেনা এভাবে অনেক ভালো ছেলেও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সকাল বেলা ব্রেকফাস্ট ভালো করে করবে তারপর শুধু চোখ বুলিয়ে নেওয়া মুখসত্দ গুলো একবার বলে নেওয়া বেশী হড়বড় করার প্রয়োজন নেই তারপর স্নান সেরে ভাত খেয়ে যথেষ্ট সময় হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়ো 

(৮) পরীক্ষার জন্য যা যা নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন সেগুলি একটি ছোট্ট তালিকা তৈরী করে ফেলো পেন, পেন্সিল, রাবার, জ্যামিতি বক্স, এডমিট কার্ড প্রভৃতি বাড়ী থেকে বের হওয়ার সময় একবার সেগুলি সব নেওয়া হয়েছে কিনা তা দেখে নিতে ভুলে যেওনা 

(৯) তারপর পরীক্ষার হলে পৌঁছে বিশ্রাম করো প্রশ্নপত্র হাতে পেলে ভালো করে পড়তে থেষ্ট সময় নাও - পাঁচ থেকে দশ মিনিট কেননা, প্রশ্ন নির্বাচন একটি বড় জিনিস 

(১০) তারপর ধিরস্থির ভাবে মাথা ঠান্ডা করে সাবলীল গতিতে সময়ের দিকে খেয়াল রেখে কলম চালিয়ে যাও লেখার সময় তাড়াহুড়ো করার পরিবর্তে slow but steady wins the race এরকম মানসিকতা রাখাই ভালো কোন বড় প্রশ্নের উত্তর লিখতে গিয়ে কিছু ভুলে গেলে দু'একবার মনে করে লেখার চেষ্টা কর তারপরও যদি মনে না আসে তাহলে ওখানে থমকে দাঁড়িয়ে না থেকে পর্যাপ্ত জায়গা ফাঁকা রেখে এগিয়ে চলো 

(১১) ওভার রাইটিং করবে না কোন শব্দ বা বাক্য ভুল হয়ে গেলে ঐ শব্দ বা বাক্যটির উপর আলতো করে একটা লাইন টেনে দাও খাতার পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা এক বিরাট গুরুত্বপূর্ণ জিনিস কেননা যিনি খাতা দেখবেন তাঁর কাছে তোমার এটা ভালো ধারণা (good impression) হওয়া ভাল নম্বর পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রবল ভূমিকা রাখে 

() সবশেষে বলে রাখা ভালো কোন বিষয়ের উপর পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পর ঐ বিষয়ের দিকে একটি বারের জন্যও ফিরে তাকানোর প্রয়োজন নেই সমস্ত মনোযোগ পরের দিনের পত্রের দিকে দিতে হবে তাই পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে বাড়ী এসে খাওয়া দাওয়া করে একটু হাল্কা বিনোদন সেরে পরের দিনের পরীক্ষার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ো 

তোমাদের পরীক্ষা ভালো হোক এস.আই.ও. এবং যুবপ্রত্যাশার পক্ষ থেকে এবং আমার নিজের তরফ থেকে তোমাদের জন্য থাকল অশেষ শুভাকাঙ্খা এবং আন্তরিক দোওয়া 

লেখক: আয়াতুল্লা ফারুক, রিসার্চ স্কলার, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়৷

Friday, August 6, 2010

সুস্থভাবে বাঁচতে উপবাসের ভূমিকা

রোজা মাসের সময় একজন মুসলিম সকাল থেকে কিছু খান না ও পান করেন না,যখন দিগন্তে আলোর ঝলক দেখা যেতে পারে,যতক্ষণ না পর্যন্ত সূর্য ডুবছেরমজান চলা কালীন একজন ইন্দ্রিয় সন্তুষ্টি থেকে বিরত থাকেরোজার নীতি এই সীমাবদ্ধতা এবং অসংযমীর সাথে যুক্তসীমাবদ্ধতা ছাড়া সত্যিকারের জ্ঞান অসম্ভব,কারণ আমরা যখন শেষ আসি অথবা কোনো জিনিসের সীমানায় যে এর প্রকৃত বৈশিষ্ট্য প্রমাণ হয়ে যায়রোজা অসংযমের সীমা নির্ধারণ করে,অথবা এতে আরোপ করে একটা পরিষ্কার সীমা দিনের পর দিন এক মাসের জন্য অথবা প্রায় ৩৬০ ঘন্টার জন্য একটা সুস্পষ্ট আধ্যাতিক শিক্ষা প্রদান করেএটাও চলতে থাকে একটা বিশুদ্ধতার এবং ত্যাগের মহানতাতে যেটি যেমন গাছকে কেটে ফেলা যেটি পুণরাবৃত্তিক এবং বিশুদ্ধ শক্তিতে নিয়ে যায়মৌলিক ভূমির উপর এটা নিয়ে আসে ক্ষুধায় ভোগার একটা সোজাসুজি বোঝাপাড়াএই সীমাবদ্ধতা বেড়ে যায় এবং কারো ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ,যাতে করে কেউ একজন কুঅভ্যাসতে ত্যাগ করতে পারে

অন্যান্ন ধর্মে রোজা
উপবাস প্রায় সব ধর্মে পালন করা হয়জিও এবং খ্রীষ্টানরা ও উপবাস করেনজিওস আইন আদেশ করে একটা বাৎসরিক উপবাস ওম কিপের একটা এটনমেন্টের দিনঅনেক গোঁড়া জিওস এ বর ও বধুকে তাদের বিবাহের দিনের আগে উপবাস করার প্রয়োজন হয়লেন্টের,৪০ দিনের সময় যখন যেটা জেসাস(ইসা আলেহ সাল্লাম)জনহীন মরুভূমি তে রোজা পালন করেছিলেন,সেই সময় অনেক খ্রীষ্টান রোজা পালন করেন

কেন মুসলিমদের রোজা করা উচিত
সন্ন্যাসী উপাদান সকলের জীবনে প্রয়োজনকোনো ধর্ম সম্ভব নয় স্ব-প্রত্যাখান এবং সন্ন্যাসী ছাড়াইন্দ্রের উপলব্ধি উৎপন্ন করতে সক্ষম হতে, একজন একদা অবশ্যয় পশ্চাদপসারণ অনুভূতির অঢেল জীবনএইভাবে অবাধ নীতির কিছু উপকরণ থেকে জীবনের অনুভূতি টিকে সমতা রেখেছে এবং আধ্যাতিক জীবনের জন্য মনুষ্য আত্মা কে খুলে রাখেএই রকম একটা নিয়ম রোজা রাখা,রমজান মাসে এবং অন্যান্ন সময়ে মুসলিমদের উপর নিয়মানুবর্তী হওয়ারোজার সময় পরিহারটি ভোগবাসনা আত্মার প্রতি নির্দেশিত করে,যাকে কোরাণ বলে “অল-নাফস অল-আমারাহ”রোজার সময় ভোগবাসনা আত্মার দূরন্ত প্রবনতাকে নিয়মিতভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখে প্রশমিত করে পরিকল্পনা মাফিক এই প্রবণতাগুলো কে ভগবানের ইচ্ছার প্রতি সর্মপন করেরোজার সময় ভোগবাসনার বিপুল কামনা অপ্রত্যুক্ত হয়ে যায় যেহেতু মুসলিম বলা হয় তার রোজা আল্লাহ কে খুশি করার জন্য
(সুবহানাহু ওয়া তালহা),এইটা সুতরাং মুসলিমদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিরত থাকতে,কেবল খাওয়া ও পান করা থেকে নয়,প্রতিটি ব্যাকুল ইন্দ্রিয় কামনা থেকেরোজার সময় খাবার এবং পানীয় যেটা অনুমোদনের জন্য নেওয়া হয় বছরের বাকী সময়ের জন্য সেটা নিমহা বা উপহার হয়ে যায় স্বর্গ থেকেএই রোজা বিশুদ্ধতার ফলক হয় বিশ্বের অনুভূতির সাথে রোজাতে একটা মুসলিম তার বস্তুবাদ জীবন থেকে আল্লাহ কে পছন্দ করেএই পথ নবী মহম্মদ(সাল্লাহ আল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) রোজা করতে ভালোবাসতেন খুব ঘনঘন এবং তাকে বলা হত অল-ফকর ফকরি(আমার গর্বের আধ্যাতিক দারিদ্র)

প্রবল অনুরাগের মৃত্যু মানুষের আত্মাকে বিশুদ্ধ করে
এই কারণে য় পবিত্র রমজান মাসের আগমণ কে খুশির সহিত সম্ভাষণ করা হয়এই মাসের জন্য স্বর্গের দরজা খোলা হয় বিশ্বস্থদের জন্য এবং আল্লাহ করুণা ঝাঁপিয়ে যিনিরা এটা চানযিনিরা রমজান মাসে রোজা সম্পন্ন করেছেন তিনারা নবযৌবন লাভ করেন এবং পরের বছরে সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত হন জীবনে দৃঢতার সাথে এবং আল্লাহ র ইচ্ছার অনুযায়ী কাজ করেন

বিজ্ঞান উপবাস কে সমর্থন করে
উপবাস করার লাভ কী?বিজ্ঞানীরা পড়াশোনা করেছেন যে,শরীরের উপর উপবাসের ফল এবং বের করেছেন যে খাবার নেওয়াটা শরীরের বিপাকীয় ক্রিয়া টা বাড়িয়ে দেয়উপবাসের পর,বিপাকীয় ক্রিয়া টা সাধারণ হারের থেকে শতকরা ২২ শতাংশ কমে যায়গবেষণা এটাও দেখিয়েছে যে দীর্ঘ সময় উপবাসের পর শরীর নিজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়,নিজে থেকে বিপাকীয় ক্রিয়ার হার কমিয়ে দিয়েউপবাসের পর একজন ধীরে ধীরে কাজ করা শুরু করে নিজে থেকে
অন্যান্ন কিছু পড়াশোনায় রোজা রাখা মুসলিমদের কার্য সম্পাদন,এটা দেখা গেছে যে সেখানে একটু হাল্কা ওজন হারিয়ে যায় স্ত্রী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেতাদের রক্তের শর্করা মাত্রা তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বেড়ে যায়অন্যান্ন বিষয় গুলো যেমন রক্তের ক্রোটিসল, টেট্রোটেরণ,সোডিয়াম,পটাশিয়াম,ইউরিয়া,সম্পূর্ণ কোলেষ্ট্রেল,এইচডিএল(হাই ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন), টিজি (ট্রিগলিসেরাইড),এবং সিরাম অসমোলাটিটি বিশেষ কিছু পার্থক্য দেখায় না
ইরানে অন্য একটি অধ্যয়ন করা হয়েছিল একশতক আগে দেখায় যে খাবার ও পানীয় থেকে এখানে সেখানে ছড়িয়ে থাকা প্রায় দিনে ১৭ ঘন্টা ৩০ দিনের জন্য পুরুষের পুনরুৎপাদন হরমোন কে পরিবর্তন করে না, এইচপিটিএ (হাইপোথালামিক-পিটুইটারি-থাইরয়েড-এক্সিস) অথবা থাইরয়েড হরমোনোর আনুসাঙ্গিক বিপাকীয়উপবাসের পর কোনোরকম পরিবর্তন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে চার সপ্তাহ পরে
ডঃজালিল ইল আটি এবং তার সহযোগী (“ইনক্রিজড ফ্যাট অক্সিডেশন ডিওরিং রামাদান ফাস্টিং ইন হেলদি ওমেনঃএন এডাপটিভ মেকানিজম ফর বডি-ওয়েট মেনটেনেন্স ”এম যে ক্লিন নিউট্রি ,আগষ্ট ১৯৯৫), যিনি নরপৈদিক রামাদানের উপবাসের সাম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া পরিক্ষা করেছিলেন এবং স্বাস্থ্যবতী তুনিসিয়ান মুসলিম মহিলাদের বিপাকীয় পরিবর্তন দেখায় যে মোট দৈনিক শক্তি নেওয়া অপরিবর্তনীয় থেকে যায় যেখানে পুষ্টির  গুণগত অংশ বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছেরামাদানের রোজা শরীরের ওজন বা গঠন কে প্রভাবিত করে নাফলটা নির্দেশ রামাদানের সময় করে শ্বাসপ্রশ্বাস সংক্রান্ত এবং শক্তি ব্যায়চর্বিযুক্ত অক্সিডেশেন ও বেড়ে যায় এবং কার্বোহাইড্রেট অক্সিডেশেন কমে গিয়েছিল নাইসিমেরনের ছোট সময়ের মধ্যে
অ-মুসলিমীয় দেশগুলি যেমন ইউএস শারীরবিদ বিশেষ করে পরিবারের শারীরবিদ এবং তরুণ চিকিৎসক গ্লুকোজে এবং বিলিরুবিন পরিবর্তন সম্বন্ধে সচেতন হওয়া দরকার রামাদান মাসের সময়
উপবাস মিউকোসা বাড়াতে পারে আরহন করে বি-লিম্ফোসাইট কোষ দায়ী যখন বি কোষের উপর প্রতিক্রিয়া থাকে না বাতরোগ সংক্রান্ত গেঁটেবাত রোগী এবং স্বাস্থ্যবান স্বাচ্ছাসেবক উভয়ের ক্ষেত্রেএকটা পাঠে,তিন দিন পর কেবল মাত্র জল উপবাস করা হয় ৭ জন্য বাতরোগ সংক্রান্ত গেঁটেবাত রোগী এবং ১৭ জন্য স্বাস্থ্যবান স্বাচ্ছাসেবক ইনফুলেঞ্জা ভাইরাস ভ্যাকসিন হয় মুখে বা ইনজেক্সসনের মাধ্যমে নিয়েছেযখন রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়েছিল বি লিম্ফোসাইটের জন্য একসপ্তাহ বাদে সাড়া দিয়েছিল,এটা দেখা গিয়েছিল যে বি লিম্ফোসাইটের সাড়া এই বিভাগে বেড়েছে যারা ভ্যাকসিন মুখে নিয়েছিল গেঁটেবাত রোগী এবং স্বাচ্ছাসেবক উভয়েইইনজেক্সসন ভ্যাকসিনের সাড়া অপরিবর্তনীয় ছিল উভয় বিভাগেই

উপবাস দীর্ঘায়ূ হতে সাহায্য করে
গবেষণাগারের প্রাণীর উপর অধ্যায়ন দেখিয়েছে যে ক্যালোরি নেওয়ার বাধা দীর্ঘায়ূ হওয়া টা বাড়িয়ে দেয় কার্যকারীর দূর্বলতা হওয়ার হার টা কমিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে বয়স ঘটিত রোগ ঘটার সম্ভবনা কমিয়ে দেয়ক্যালোরি বাধে দেওয়ার ক্রিয়ার কার্যকারিতা অজানা থেকে যায়,যাইহোক তথ্য বলছে যে কোষবিশিষ্ট কার্যকারিতা এমনভাবে পরিবর্তন হয় যে বিপাকীয় ক্রিয়ার সৃষ্টির ধ্বংসাত্বক কমে যায় এবং প্রতিরোধ অথবা সংরক্ষ্ণন তন্ত্র বেড়ে যায় এই পুষ্টিগত সংশোধনের দ্বারাপ্রাণী এবং মানুষ বিদ্যা বলে যে সাম্ভাব্য উপকারিতা পথ্যবিধি সংক্রান্ত,অনুশীলন,অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট,হরমোন এবং ডেপ্রিনিল

উপাবাসী এবং দুধ খাওয়ানো মায়েরা
উপবাসের প্রতিক্রিয়া এবং বর্ধিত ব্লাড ইনসুলিন এবং দুধের পরিমাণে গ্লুকোজ এবং সংযোজন অধ্যায়ন করা হয় গ্লুকোজ ক্লাম প্রক্রিয়ার সাহায্যে বিশেষ এবং আংশিকভাবে দুধ খাওয়ানো মেয়েদের ক্ষেত্রে (দৈনিক ২০০ মিলির বেশি দুধ উৎপাদন করে না)দুধের আয়তন, দুধের গ্লকোজের কেন্দ্রীকরণ ,এবং মোট থাকা ফ্যাট অথবা ল্যাকটোজ ক্ষরণের হারের উপর কোনো প্রতিক্রিয়া নেয়এটা উপসংহার করা যায় যে হোমোস্টাটিক প্রক্রিয়ার দ্বারা মানুষের দুধের উৎপাদন পৃথক করা হয়েছে যেটা শরীরের বাকি অংশে গ্লুকোজের বিপাকীয় ক্রিয়া কে পরিচালিত করে, এই অংশে কারন ল্যাক্টোজ সিন্থেসাইজ তন্ত্র গ্লুকোজের এম গোলকি কামরায় যে সংযোজন পাওয়া যায় তার থেকে কম
একটা পঠন যেখা বলছে যে মেয়েদের অল্প সময়ের(৭২ ঘন্টা) উপবাসের প্রতিক্রিয়া হরমোন ক্ষরণের পুণঃউৎপাদনের এবং রজঃস্রাব সংক্রান্ত কার্যের উপর,এটা নির্ণয় করা যায় যে গভীর বিপাকীয় পরিবর্তনের সত্বেও,একটা ৭২ ঘন্টার উপবাসের সময় স্বাভাবিক মেয়েদের রজঃস্রাবের উপর প্রতিক্রিয়া করে না

উপবাস এবং অবসান ঘটানো
উপবাসকে ব্যবহার করে জটিল অসুখ চিকিৎসা করার অধ্যায়ন পরিচালিত হয় অসটিও বাত-রোগ সংক্রান্ত গেঁটে বাত অথবা হাঁপানি কিছু কম সময়ের জন্য কিছু দিনের জন্য স্বাস্থ্য পরিক্ষা করা জল কেবল মাত্র ৩০ দিনের উপবাস শরীর নিজে থেকে নিরাময় করতে সাহায্য করেএটা জানা গেছে যে বাচচা এবং প্রাণি উভয়ই খেতে অনীহা করে যখন তারা স্বাভাবিক ভাবে দূর্বল থাকেগভীর ভাবে অসুস্থের কোনো জৈব আকাঙ্খা নেই,কিন্তু তারা খাবার নেই কেবলমাত্র বাড়ির লোকদের তাড়াতেগভীরভাবে অসুস্থরা কোনো ক্ষুধা অনুভব করে না কারণ গভীর অসুস্থতাতে স্বাভাবিক সাড়াতে হস্তক্ষেপ করেশরীর সবসময় নিজে থেকে নিরাময় করেযখন রোগী বিশ্রাম নেই এবং কেবলমাত্র জল নেই শরীর নিজে থেকেই উপশম করে এবং রোজা রাখা টাকে সহজতর করেরোজার দ্বারা যেগুলো আসক্তিজনক যেমন কফি,সিগারেট,নোনা ও মিষ্টি জাতীয় খাবার,যেমন রোজা মুকুলের স্বাদ নিতে সাহায্য করে এবং স্বাস্থ্যকর খাবার ভালো স্বাদ পেতে সাহায্য করেযাইহোক ইনসুলিন নির্ভরশীল ডায়াবেটিক রোগী রোজা রাখবে না কারণ ইনসুলিন নির্ভরশীল ডায়াবেটিক রোগীর কেটোসিসের জন্য যিনি কেটোসিসটাকে ভাঙ্গতে পারেন না এবং জ্বালানী হিসাবে তাদেরকে ব্যবহার করেস্বাস্থ্যবান লোকেরা কেটোসিস(ফ্যাট বিপাকীয়র উপাজাত) ব্যবহার করে শক্তি সমতা রাখার জন্য (গ্লোকোজ সংরক্ষণের জন্য ,গ্লুকোজ কেন্দ্রীয় তন্ত্রে সীমাবদ্ধ থাকে,বিশেষ করে মাথার ঘিলুতে,মাথার ঘিলু থেকে গ্লুকোজ নেওয়ার পরিবর্তে শরীর চর্বিযুক্ত অ্যাসিড মেদবহুল কলাতে ভাঙ্গতে শুরু করে)লোকেরা যিনিরা অ-ইনসুলিনযুক্ত ডায়াবেটিক (বেশিরভাগ লোক যিনিদের ডায়াবেটিক আছে) রোজা রেখে তাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারেন
রোজা কার্ডিওভাস্কুলার রোগ,গেঁটে বাত,হাঁপানি,অ-ইনসুলিন নির্ভর ডায়াবেটিক,আলসার,হজম সংক্রান্ত অনিয়ম, লুপাস, চর্মের সমস্যা (সিস্ট,টিউমার,কিডনি স্টোন যুক্ত) রোগীদের সাহায্য করেএমনকি ধুমপান ছেড়ে দেওয়া এবং অতিশয় স্থুলতা রোজাতে ভালো সাড়া দেয়
রমজান মাসের রোজা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো প্রতিকূলতার কারণ হয় না ,অপর পক্ষ্যে এটি ওজন ও লিপিড বিপাকীয় তে এর হিতকর প্রতিক্রিয়া আছে
লেখক: ডাঃ ইব্রাহীম বি সাইদ, পি এইচ ডি, ক্লিনিকাল প্রফেসর অফ মেডিসিন, ইউনিভার্সিটি অফ লুইসভিলি, ইউ এস এ